সত্য জানি, সত্য মানি এবং সত্যের সাথে থাকি। সকল খবর হোক সত্য ও নিরপেক্ষ।

সত্যকে অস্বীকার কারনে, গত চার দশকে জাতি হিসাবে আমরা মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারিনি । স্বাধীনতার প্রায় অধ শতাব্দীতে জাতি তার কাঙ্তিত সাফল্য পায়নি।

মোর নাম এই বলে ক্ষ্যাত হোক – আমি তোমাদেরই লোক

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ জাতি সমৃদ্ধিলাভ করেছে - আমরা তাদের ভুলব না । তোমরা অমর হয়ে থাকবে জাতীর ভাগ্যাকাশে। আমাদের ভালবাসা ও দোয়া রইল।

IT BD SOFT. একটি বিশ্বস্থ আইটি ট্রেনিং সেন্টার

------Pls visit http://itbdsoft.tk ------- কম্পিউটার শিক্ষা প্রসার ও বিকাশে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা হোক সবার জন্য উম্মুক্ত ও সহজলভ্য।

পযটন হোক – জাতীয় উন্নতির একমাত্র হাতিয়ার।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া। কক্সবাজার, সুন্দরবন, কুয়াকাটা, নীলগিরি সহ হাজারো দৃষ্টি নন্দন অপার সৌন্দার্য ছড়িয়ে আছে এ জমিনে – জানি ও সমৃদ্ধ করি দেশমাতৃকাকে।

IT BD SOFT. একটি বিশ্বস্থ আইটি ট্রেনিং সেন্টার

------Pls visit http://itbdsoft.tk ------- কম্পিউটার শিক্ষা প্রসার ও বিকাশে / এছাড়াও আমরা ডোমিন- হোষ্টিং বিক্রি /আপনার সাইটের ভিজিটর বাড়ানো / সাইটিকে কে গুগল টপে আনতে আমাদের সাহায্য নিন।

Showing posts with label খারাপ কাজ. Show all posts
Showing posts with label খারাপ কাজ. Show all posts

Wednesday, January 1, 2014

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ - বিদেশী হায়েনা ও দেশীয় সিন্ডিকেটের কবলে

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সিন্ডিকেটের কবলে

 বাংলাদেশের ভূ-অভ্যšত্মরের সমতলে ও সমুদ্রবক্ষের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, বিপণনসহ কর্তৃত্ত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্বব্যাপী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বহুজাতিক ও মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করার কূট চাল চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও মার্কিন কূটনৈতিকরা পৃথিবীর দেশে দেশে অবস্থান করে দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।



বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে বিদেশি কোম্পানিগুলো করাল থাবা বসিয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আšত্মর্জাতিক দরপত্র আহবান করে বাংলাদেশ, এই দরপত্র আহবান করার পর আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি। মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো শর্তের অজুহাতে দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি এবং এশীয় অঞ্চলের অন্য কোন কোম্পানি যাতে অংশগ্রহণ না করে এই জন্যও তারা গোপন তৎপরতা চালায় বলে শোনা গেছে। তাই বাংলাদেশের আহবানকৃত দরপত্রে কোন কোম্পানি অংশ নেয়নি। ফলে বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কোন আšত্মর্জাতিক কোম্পানিকে কাজে লাগাতে পারেনি। আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ সরকারকে দরপত্রের শর্ত শিথিল করার আহবান জানায়। মার্কিন কোম্পানি শেভরনের নেতৃত্ত্ব সরকারের কাছে আবেদন জানায় যে, আহরিত তেল-গ্যাস তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে এমন শর্ত আরোপ করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য। বাংলাদেশ সরকার যদি আšত্মর্জাতিক কোম্পানির এই আবদার মেনে পুনরায় দরপত্র আহবান করে তাহলে বাংলাদেশকে গাধার মতো মিঠাইয়ের বোঝাই বহন করা হবে মিঠাইয়ের স্বাদ আর গ্রহণ করতে পারবে না। বিশেষ করে মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানি চাইছে বাংলাদেশের সমুদ্রগভীরে রক্ষিত গ্যাসের একচ্ছত্র আধিপত্য। তা যদি না হতো তাহলে তারা কিভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির শর্ত উল্লেখ করে পুনরায় বাংলাদেশকে দরপত্র আহ্বানের অনুরোধ জানায়।

এদিকে বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে। লোডশেডিংয়ে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এই বা¯ত্মবতায় বাংলাদেশের জ্বালানিসম্পদ তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করার শর্ত কিভাবে সরকার গ্রহণ করবে? আশ্চর্য হওয়ার মতো বিষয় বিদেশি কোম্পানিগুলোর প্র¯ত্মাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই নমনীয়তার কারণে সমতলের গ্যাস আহরণকারী আšত্মর্জাতিক মার্কিন কোম্পানি শেভরণ দেশের অন্যতম গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানা, জালালাবাদ এবং মৌলভীবাজারের গ্যাস ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির কিছু শর্ত শিথিল করার জন্য পেট্রোবাংলাকে চাপ দিচ্ছে। জানা গেছে পিএসসিতে গ্যাসের দাম কম ধরায় ও তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি করার কথা উল্লেখ না থাকায় তাদের এই আপত্তি। আšত্মর্জাতিক কোম্পানি এই দেশের গ্যাস নিয়ে যে বাণিজ্য করছে তা দেখে অবাক হতে হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির আহরিত গ্যাস সরকার যে দামে কিনে তার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি দামে সরকারকে গ্যাস কিনতে হয় আšত্মর্জাতিক কোম্পানির আহরিত গ্যাস অথচ উভয় কোম্পানি বাংলাদেশের ভূগর্ভ থেকে গ্যাস আহরণ করে। আমরা যে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও কলকারখানায় গ্যাস পাই এই গ্যাস পেট্রোবাংলা বাপেক্সের কাছ থেকে কিনে প্রতি হাজার ঘনফুট ৭ টাকা করে আর আšত্মর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে কিনে প্রতিহাজার ঘনফুট ৩ ডলার করে। উপরš‘ আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোর করপোরেট ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয় পেট্রোবাংলাকে। আমাদের দেশে তারা ব্যবসা করে যাচ্ছে আর তাদের ট্যাক্স আমাদেরকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে তাছাড়া আšত্মর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করা গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারের মাধ্যমে ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ পড়ে। নিয়তির কি পরিহাস আমাদের দেশের সম্পদ আমাদের রিজার্ভ ব্যয় করে বিদেশ থেকে আমদানি করা দ্রব্যের মতো আমাদেরকেই কিনতে হচ্ছে। আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারকে প্রতি বছর ২০০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা নিজভূমে পরবাসের মতো। বাংলাদেশ থেকে ৩০ গুণ বেশি দাম নেয়ার পর আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোর তৃপ্তি হচ্ছে না তাদের আরও চাই, বর্তমানে আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলো চাইছে আহরণ করা সম্পূর্ণ গ্যাস পা¯ত্মুরিত করে তারা যেন তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারে সরকার যেন তাদের এই অনুমোদনটাই দেয়। মার্কিন কোম্পানি শেভরনের নেতৃত্ত্ব আšত্মর্জাতিক কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন করেছেন যে, সমুদ্রপৃষ্ঠে তাদের আহরিত গ্যাসের দাম বাড়াতে এবং কোম্পানির অংশের গ্যাস বাজার দর অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে। যেখানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক উৎপাদন কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে তাছাড়া গ্যাস সংকটে দেশের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া উৎপাদন কমে গেছে। চাহিদার প্রায় একদশমাংশ ইউরিয়া বর্তমানে উৎপাদিত হচ্ছে। এ খাতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেভরনের এই প্র¯ত্মাব কিসের ইঙ্গিত বহন করে? বাজার দর অনুসারে গ্যাস বিক্রি করলে কেন তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে হবে? কেন বাংলাদেশের কাছে নয়? কেন মার্কিন কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ থেকে গ্যাস আহরণ করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিক্রি করতে চায় না কেন? পেট্রোবাংলাকে কি শেভরন জিম্মি করে ফেলেছে? শেভরনের আচরণ দেখে মনে হয় মার্কিন এই কোম্পানিটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানার শিকড় প্রোথিত করে বসে আছে। আর এই কোম্পানিটির প্রভাবে এশীয় অঞ্চলের কোন কোম্পানি দরপত্র প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাই বাংলাদেশের গভীরসমুদ্রের তেল-গ্যাস আহরণের দরপত্রে মার্কিন কোম্পানি শেভরন চাচ্ছে সমুদ্রের আহরিত গ্যাস তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করার অধিকার। অথচ বাংলাদেশের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে দেশের ৫০ বছরের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে (যদি শতকরা ৬ ভাগ প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়) তাহলে দরকার প্রায় ১১০ টিসিএফ গ্যাস। সেখানে বাংলাদেশের বর্তমানে আছে ৭-৮ টিসিএফ। আমরা কয়লাকে যদি এই হিসাবের আওতায় এনে হিসাব করি তাহলে হবে ৩৫-৪০ টিসিএফ যদিও কয়লা নিয়ে এশিয়া এনার্জিও কুচাল অব্যাহত রয়েছে। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে, আরও প্রয়োজন ৬০-৭০ টিসিএফ গ্যাস বর্তমানে যে গ্যাস মজুদ আছে তা থেকে প্রায় ১০ গুণ গ্যাসের প্রয়োজন হবে। এই গ্যাসের জন্য বাংলাদেশকে পুরোপুরি বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এর ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ৫০ বছরের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের আহরিত গ্যাস কোন ক্রমেই তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা যাবে না। যদি সংশোধিত পিএসসিতে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি করার এমন ধারা সংযোজন করা হয় তা হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী। শেভরনসহ বিদেশি কোম্পানিগুলো চাইবে আšত্মর্জাতিক বাজারে গ্যাস বিক্রি করতে। কারণ এখানে তাদের দুই ধরনের লাভ নিহিত আছে এক অধিক মুনাফা অজর্ন দুই আধিপত্য বি¯ত্মার। বাংলাদেশ যদি বিদেশি কোম্পানির সিন্ডিকেটে প্র¯ত্মাবিত ধারাগুলো পিএসসিতে সংযোজন করে তাহলে এই দেশও নাইজেরিয়ার রূপ লাভ করবে। মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানির সিন্ডিকেটে ঘেরাটোপে বাংলাদেশ ক্রমশই জড়িয়ে পড়ছে আর এর ফলে এই বিদেশি কোম্পানিগুলো আšত্মর্জাতিক দরপত্রে মনোপলি আচরণ করেই যাচ্ছে। তাছাড়া মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কূটনৈতিকরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকা-ের নিয়ামকের স্থান দখল করে নেয়ায় সরকারি ও প্রধান বিরোধীদল তাদের তোষামোদ করে এবং তাদের দিক নির্দেশনা মেনে রাজনীতি পরিচালনা করে। দেশের রাজনৈতিক অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ে এই কূটনৈতিকরা হ¯ত্মক্ষেপ করে থাকে। আর এই পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে কোটি কোটি টাকার মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো।

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানায় বিদেশি কোম্পানিরা ভাগ বসাতে শুর“ করে জোট- মহাজোটের আমল থেকে, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম শুর“ হয় গ্যাস ক্ষেত্র বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া, বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্রগুলোকে বিভিন্ন বস্নকে ভাগ করে বিভক্ত করা হয়েছে। আর বিএনপি সরকার সেই সময় ১৫, ১৬নং বস্নক কেয়ার্ন এনার্জি-হল্যান্ড সি-সার্চকে। বস্নক ১২, ১৩ ও ১৪ অক্সিডেন্টালকে। বস্নক ১৭, ১৮ অকল্যান্ড রেক্সউডকে। বস্নক ২২ ইউনাইটেড মেরিডিয়ান করপোরেশনকে ইজারা দিয়ে দেয়। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সেই ধারা অব্যাহত রাখে। আওয়ামী লীগ সরকার এখানে ব্যতিক্রম হিসেবে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে নামমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সকে সংযোজিত করে। সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকার বস্নক ৫, ১০ শেল-কেয়ার্ন এনার্জি- বাপেক্সকে, বস্নক ৯ টাল্লো-শেভরন-টেক্সকো-বাপেক্সকে, বস্নক ৭ ইউনিকল বাপেক্সকে ইজারা দেয়।

এভাবেই বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদে কর্তৃত্ব করতে শুর“ করে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্স ত্রিমাত্রার ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির পরিত্যক্ত করে রাখা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস কূপ আবিষ্কারের মতো অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। কুমিল্লার শ্রীকাইলসহ দেশের অনেক স্থানে গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো অভাবনীয় সাফল্য লাভ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর মেধাকে কেন সরকার কাজে না লাগিয়ে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভর হচ্ছে তা কিš‘ জনমনে প্রশ্ন নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির জোগান দিতে পারলে তারা বিদেশিদের চাইতে বেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হবে। তাই সরকারের উচিত বিদেশিদের ঘেরাটোপের সিন্ডিকেট কবল থেকে দেশের প্রাকৃতিকসম্পদকে রক্ষা করা। তা করার জন্য দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সমুদ্রবক্ষের গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনের কাজে লাগাতে হবে। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের যে রিজার্ভের বিনিময়ে দেশের গ্যাস বিদেশিদের কাছ থেকে কিনতে হয় সেই বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
সূত্র - শাহ মো. জিয়াউদ্দিন : দৈনিক আমাদের সময় ।

Friday, September 13, 2013

লতিফ সিদ্দিকীর দখল করা সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ি উদ্ধার হয়েছিল যেভাবে

লতিফ সিদ্দিকীর দখল করা সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ি উদ্ধার হয়েছিল যেভাবে
শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩
স্টাফ রিপোর্টার: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী। সমপ্রতি নানা বিষয়ে আলোচিত তিনি। মার্কিন  রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে কৈফিয়ত চেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে হরতালকারীদের ঘরে ঢুকে হত্যা করারও নির্দেশ দিয়েছেন এ নেতা। বক্তৃতা বিবৃতিতে নিজেকে আওয়ামী লীগের খাঁটি কর্মী প্রমাণ করতে চান তিনি। সমালোচনা করেন দলের প্রবীণ নেতাদেরও। আলোচিত এ নেতার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেও ছিলেন আলোচনায়। বঙ্গবন্ধু তখন প্রধানমন্ত্রী। আর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য। সেই সময়ে নিজের লোকজন দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি দখল করে নিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য ওই বাড়ি উদ্ধার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। রক্ষিবাহিনী অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে লতিফ সিদ্দিকীর লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ময়মনসিংহে। ওই বাড়ি উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আনোয়ার উল আলমের বর্ণনায়। তিনি ওই সময় লেফটেনেন্ট কর্নেল মর্যাদায় রক্ষী বাহিনীর উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) ছিলেন।
‘রক্ষী বাহিনীর সত্য-মিথ্যা’ বইয়ে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। বইটির ‘বিরাগভাজন হওয়ার কয়েকটি ঘটনা’ উপ শিরোনামে আনোয়ার উল আলম ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-
কোন বাহিনীর হয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে গিয়ে ওই বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনেক সময় সরকারি দলের নেতা, কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের বিরাগভাজন হতে হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞতা অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের চেয়ে বেশি। জাতীয় রক্ষীবাহিনীর একজন উপ-পরিচালক হিসেবে আমি নিজেও কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরাগভাজন হয়েছিলাম।
ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসার পর কাজে যোগ দিয়ে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে থাকি। কিছুদিন পর, একদিন সন্ধ্যায় আমি অফিসে কাজ করছি। আমাদের বাহিনীর পরিচালক এএনএম নূরুজ্জামান আমাকে ডেকে পাঠান। তার কাছে যাওয়ার পর তিনি আমাকে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বললেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে শেরেবাংলা নগরের নতুন গণভবনে যাই। গণভবন ও আমাদের সদর দপ্তরের মধ্যে তেমন দূরত্ব ছিল না। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমি গণভবনে পৌঁছাই। প্রধানমন্ত্রীর সচিবের কাছে যাওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে আমার উপস্থিতির কথা জানান। বঙ্গবন্ধু সচিবের মাধ্যমে আমাকে তার কক্ষে যেতে বলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর অফিসকক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পাই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সোফায় বসে আছেন।
বঙ্গবন্ধুর চেহারা দেখে আমার মনে হলো, তিনি খুব রাগান্বিত। এতে আমি একটু আশ্চর্য হয়ে গেলাম। ভাবলাম, আমি কি কোন ভুল করে ফেলেছি? আমি বঙ্গবন্ধুর সামনে যেতেই তিনি আমাকে বললেন শোন, চৌধুরী সাহেবের পৈতৃক বাড়ি লতিফ দখল করেছে। ওই বাড়ি আজ রাতের মধ্যেই খালি করতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। এ লতিফ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। একই থানার নাগবাড়ি গ্রামে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশাল পৈতৃক বাড়ি। লতিফ সিদ্দিকী ওই বাড়ি দখল করেছেন। আমি কোন কিছু না ভেবেই সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে বললাম, খালি হয়ে যাবে, স্যার। এরপর বঙ্গবন্ধু আমাকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছ থেকে সব জেনে কাজ করতে বললেন। নির্দেশ দিলেন বাড়ি খালি করে পরদিন সকালে যেন তাকে রিপোর্ট করি। তারপর আমাকে সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে রেখে বঙ্গবন্ধু পাশের ঘরে গেলেন।
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এমনিতেই খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং গম্ভীর মানুষ ছিলেন। তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। এ সুবাদে তিনি আমাকে ভাল করেই চিনতেন। তখন থেকেই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর ১০ই জানুয়ারি (১৯৭২) দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যখন তাকে রাষ্ট্রপতি করবেন বলে মনঃস্থ করেন, তখন আমাকেই তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।
একান্ত ব্যক্তিগত এবং প্রাসঙ্গিক না হলেও উল্লেখযোগ্য বলে ঘটনাটির অবতারণা করছি। ১১ই জানুয়ারি ১৯৭২ রাতে আমরা কয়েকজন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখন রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা। ভেতরে প্রবেশ করেই জানতে পারলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ ঊর্ধ্বতন নেতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দোতলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন। আমরা নিচতলায় বসতে যাচ্ছি, এমন সময় দেখি, বঙ্গবন্ধু ও অন্য নেতারা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন। আমরা উঠে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ তাদের সবাইকে সালাম দিলাম। বঙ্গবন্ধু নেতাদের বিদায় দিয়ে আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। মনে হলো, আমাদের পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। আমাদের কাছে নানা বিষয়ে জানতে চাইলেন। তবে কিছুক্ষণ কথা বলার পর মনে হলো, তিনি বেশ ক্লান্ত। তাই বেশিক্ষণ কথা না বলে আমি তাকে বললাম, আপনাকে শুধু দেখতে এসেছি। এ কথা বলে সবাই বিদায় নিচ্ছি, বঙ্গবন্ধু আমাকে কাছে টেনে নিয়ে কানে কানে বললেন, তোর ভিসিকে তাড়াতাড়ি এখানে নিয়ে আয়।
উল্লেখ্য, আবু সাঈদ চৌধুরী ৭ই জানুয়ারি লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন। সেদিন আমি তার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আমার কাছে টাঙ্গাইলের খবর জানতে চান। আমি সংক্ষেপে কিছু ঘটনা জানাই।
১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে বেরিয়ে আমার সহযোদ্ধা নূরুন্নবী ছাড়া সবাই টাঙ্গাইলে রওনা হলেন। আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাতেই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাসায় হাজির হলাম। সঙ্গে নূরুন্নবী। তার বাসায় গিয়ে জানতে পারি, তিনি শহীদ মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানদের সমবেদনা জানাতে তার বাসায় গেছেন। কখন ফিরবেন, ঠিক নেই। এ অবস্থায় আমি শহীদ মুনীর চৌধুরীর বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তার বাসা ছিল ভূতের গলিতে। এটা অবশ্য আমি জানতাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমার এক বন্ধুর সাহায্য নিয়ে আমি ওই বাসায় যাই। সেখানে আমি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করি। বিনীতিভাবে তাকে জানাই, বঙ্গবন্ধু আমাকে পাঠিয়েছেন। আমরা আপনার বাসায় গিয়েছিলাম। না পেয়ে এখানে এসেছি। তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। আপনাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এসেছি। এরপর তিনি মুনীর চৌধুরীর স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে রওনা হন।
আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন রাত প্রায় ১১টা। বঙ্গবন্ধু সবে রাতের খাবার সেরে উঠেছেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের পর বঙ্গবন্ধু তাকে সঙ্গে নিয়ে তার শয়নকক্ষে যান। নূরুন্নবী আর আমি নিচে অপেক্ষা করতে থাকি। একটু পর বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী নিচে নেমে এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরেন। আমি তখন কারণ বুঝতে পারিনি। পরদিন রেডিওতে খবর শুনে কারণটা বুঝতে পারি। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হয়েছেন।
যা হোক, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তার বাড়ি দখলের বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে একটু বিব্রত বোধ করছিলেন। তা করারই কথা। কারণ, কোন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি বেদখল হওয়ার ঘটনা একটা অচিন্তনীয় বিষয়। আমি নিজেও বেশ লজ্জা বোধ করছিলাম। আমি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছ থেকে সব শুনে তাকে আশ্বাস দিলাম যে রাতের মধ্যেই তার বাড়ি খালি হয়ে যাবে। এরপর আমি অফিসে ফিরে আসি। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তার বাসভবনে ফিরে যান। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়িটি পুড়িয়ে দিয়েছিল। তার পারিবারিক বিষয় সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য সামসুদ্দিন (মুচু মিয়া) নামের একজন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাকে পাকিস্তানি সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সাবেক রাষ্ট্রপতির পৈতৃক বাড়ি দখলদার সংসদ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে। তাই আমি কৌশল ঠিক করলাম, উদ্ধার অভিযানটা পরিচালনা করতে হবে সঙ্গোপনে। টাঙ্গাইল জেলায় কোন দিন কোন অভিযানে রক্ষীবাহিনী পাঠানো হয়নি। আশাপাশে রক্ষীবাহিনীর কোন ক্যাম্প ছিল না। কাছাকাছি ময়মনসিংহে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। সেখানে বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন লিডার সরোয়ার হোসেন। তার বাড়ি ছিল কালিহাতী থানার পাশেই বাসাইল থানায়। মুক্তিযুদ্ধকালে সরোয়ার কালিহাতী এলাকায় যুদ্ধ করেন। ফোন করে তাকে নির্দেশ দিলাম দুই ট্রাক রক্ষী সদস্য প্রস্তুত করে রাত একটার মধ্যে নাগবাড়ী পৌঁছাতে এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও করে ভেতরে যাকেই পাওয়া যাবে তাদের সবাইকে ট্রাকে উঠিয়ে সরাসরি ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে। আরও নির্দেশ দিলাম গভীর রাতে অপারেশন করার জন্য। গ্রামের লোকজন যাতে এ অপারেশনের বিষয়ে জানতে না পারে, তার জন্য নীরবে কাজ করতে হবে। কোন গুলি করা যাবে না। তারপর ময়মনসিংহে ফিরে সকালেই আমাকে জানাতে হবে।
যে রকম নির্দেশ, সে রকম কাজ। সকাল ছয়টার দিকে ময়মনসিংহে ফিরে লিডার সরোয়ার হোসেন আমাকে ফোন করে জানালেন, অপারেশন সফল। তারা নাগবাড়ীতে গিয়ে দেখেন গ্রামটি নীরব, নিস্তব্ধ। লোকজন সবাই ঘুমে, এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি যারা দখল করে আছে, তারাও ঘুমে। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তাদের সবাইকে (যত দূর মনে পড়ে ১৫-১৬ জন) ধরে কোন হট্টগোল ছাড়াই রক্ষী সদস্যরা ফিরে আসেন। আমি সরোয়ারকে দুপুরের আগেই একটা রিপোর্ট লিখে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বলি।
এরপর অফিসে গিয়েই আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে ফোন করে জানাই, তার বাড়ি খালি হয়ে গেছে। সেখানে তার লোকজন যেতে পারে। তারপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে রিপোর্ট করতে গণভবনে যাই। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি দখলমুক্ত হয়েছে জেনে তিনি খুব খুশি হন এবং নিজেই তাকে ফোন করেন।
এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সকালেই খবর পেয়ে যান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি থেকে তার লোকজনকে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে ধরে নিয়ে গেছে। এ খবর পেয়ে লতিফ সিদ্দিকী এদিক সেদিক খোঁজ নিতে থাকেন, কিন্তু কোন খবর পান না। কারণ, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) বা কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেউই বিষয়টি জানতেন না। দু’তিন দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ না পেয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীর সঙ্গে দেখা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, তিনিও এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তার কাছ থেকেই হয়তো লতিফ সিদ্দিকী খবর পান, বিষয়টা আমি জানি।
দু’তিন দিন পর একদিন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আমার বাসায় আসেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। আমি তাকে বলি যে ব্যাপারটা ঘটেছে অনেক উঁচুপর্যায়ের সিদ্ধান্তে। এর বেশি আমি জানি না। এটা জানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হবে। আমার কাছে সদুত্তর না পেয়ে লতিফ সিদ্দিকী অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তারপর চলে যান আমার বাসা থেকে। আর কোন দিন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সম্পত্তির ধারে কাছে যাননি তিনি।